আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল জেনে নিন

আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল এবং আদিম যুগের মানুষের ইতিহাস কেমন ছিল জানতে চান? তাহলে আজকে আপনি আদিম মানুষের গল্প এবং প্রথম কোন মহাদেশে প্রাচীন মানুষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। মানব সভ্যতার ইতিহাস কিভাবে শুরু হয়েছিল এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এছাড়াও প্রাচীনকালে সমাজ কিভাবে গড়ে উঠেছিল এবং প্রাচীন

আদিম-মানুষের-জীবনযাত্রা-কেমন-ছিল
বাংলার মানুষের অবস্থা কেমন ছিল এইগুলো সর্ম্পকে বিস্তারিত জানতে পারবেন। আদিম যুগে মানব সভ্যতা শুরু হয় কিভাবে এবং আদিম যুগের মানুষ কিভাবে বসবাস করত এই সকল প্রশ্নের উত্তর আজকে আপনি এই আজকে জানতে পারবেন। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল এবং আদিম মানুষের প্রথম পোশাক কি ছিল এই সম্পর্কে বিস্তারিত।

আরো পড়ুনঃ স্বপ্নে গাছ থেকে ফল পাড়তে দেখলে কি হয় ইসলামিক ব্যাখ্যা

সূচিপত্রঃ আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল

আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল

আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল সেটা জানলে আপনিও অবাক হয়ে যাবেন যে, তারা আদিম যুগে প্রকৃতির সাথে কিভাবে জীবন যাপন করতেন। আদিম যুগের মানুষের জীবনযাত্রা আজকের আধুনিক মানুষের জীবনযাত্রা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তারা প্রকৃতির সাথে নিবিড় ভাবে জড়িত ছিল এবং শিকার সংগ্রহ ও প্রকৃতির সম্পদের উপর নির্ভরশীল ছিল। আসুন দেখি আদিম মনুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

১. খাদ্য সংগ্রহ:
  • আদিম মানুষেরা প্রধানত শিকারী ও সংগ্রহকারী ছিল। তারা মূলত পশুপাখি শিকার, মাছ ধরা, বনের গাছপালা থেকে ফল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত। এছাড়াও তারা পানির খোঁজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত।
২. বাসস্থান:
  • আদিম যুগের মানুষ পাহাড়ের গুহায় এবং গাছের নিচে বসবাস করত।
৩. সামাজিক জীবন:
  • আদিম মানুষেরা সাধারণত ছোট ছোট গোষ্ঠীতে দলগত ভাবে বসবাস করত এবং জীবন ধারণের চেষ্টা করত।
৪. সরঞ্জাম:
  • আদিম মানুষের একমাত্র হাতিয়ার ছিল হাতকুড়াল, বর্শা এবং ছুরি, আর এইগুলা তৈরি করতো পাথর, হাড় এবং গাছের ডাল দিয়ে। এইগুলো এমন ভাবে তৈরি করা হতো যে এটা অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করত।
৫. সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিশ্বাস:
  • আদিম মানুষের সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিশ্বাস সর্ম্পকে তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তারা বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি পালন করতেন।

আদিম মানুষের প্রথম পোশাক কি ছিল

আদিম মানুষের প্রথম পোশাক কি ছিল জানেন না অনেককেই। আদিম মানুষের পোশাক সম্পর্কে কিছু ধারণায় ছিল না। তারা মূলত তাদের শরীরকে ঠান্ডা, গরম, রোদ এবং বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য পোশাক বানিয়ে সেটা শরীরে পড়ত। আর মজার বিষয় হচ্ছে এই পোশাক গুলো আদিম মানুষেরা বন্য পশুর চামড়া, পাতা, ঘাস, ছাল এবং লতাপাতা দিয়েই সুন্দর করে পোশাক বানিয়ে পড়ত।

আদিম মানুষেরা পশুর চামড়া গুলো শুকিয়ে তারপর কেটে পরিধান করত। এছাড়াও তারা বিশেষ করে লতাপাতা দিয়ে তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখত। তারা বিশেষ করে এই পশুর চামড়া গুলো শরীরেও ঝুলিয়ে রাখত।

আদিম মানুষের আগুনের ব্যবহার

আদিম মানুষের আগুনের ব্যবহার প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ বছর আগে শুরু করেছিল। প্রাচীনকালে তারা পাথর দিয়ে ঘর্ষণের মাধ্যমে আগুন জ্বালানো শুরু করেছিল। আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেত এবং উষ্ণতা পেত। বন্য বা শিকারী প্রাণীর থেকে সুরক্ষা পেত। এছাড়াও আগুনকে কেন্দ্র করে তারা তাদের সামাজিক যোগাযোগ স্থাপন করত।

আদিম মানুষের বাসস্থান কেমন ছিল

আদিম মানুষের বাসস্থান কেমন ছিল এইটা সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তারা মূলত গুহা, পাথরের আশ্রয়স্থল, গাছের ডাল, পাতা এবং প্রাণীর চামড়া দিয়ে অস্থায়ী কুঁড়েঘর বানিয়ে বসবাস করত। তারা তাদের আশেপাশের বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দিয়ে এই ধরনের অস্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ করত। এইভাবে আদিম মানুষেরা ঝড়, বৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করে বসবাস করত।

আদিম মানুষের পোশাক কেমন ছিল

আদিম মানুষের পোশাক কেমন ছিল অনেকেই জানেন না। আদিম মানুষের পোশাক ছিল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি। আদিম মানুষের পোশাক ছিল খুবই সাধারণ এবং কোন মতে শরীরে জড়ানো। তখনও তারা পোশাকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে কিছুই জানতো না।

তারা মূলত পশুর চামড়া, ঘাস, লতাপাতা এবং গাছের ছাল ব্যবহার করে শরীর ঢাকত। তারা এই পোশাক গুলো কাটার জন্য পশুর হাড় এবং সেলাই করার জন্য গাছের বাকল ব্যবহার করত। এছাড়াও আদিম মানুষেরা হাড়, পাথর বা শামুকের খোল দিয়ে গহনা বানিয়ে গলায় পড়ত।

আদিম মানুষের প্রথম আবিষ্কার কি

আদিম মানুষের প্রথম আবিষ্কার ছিল হচ্ছে আগুন। আগুন ছিল আদিম মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এছাড়াও তারা আগুন জ্বালানো এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ করা শিখেছিল। এছাড়াও আগুনের সঠিক ব্যবহারও তারা শিখেছিল আদিম যুগে। আদিম মানুষের আগুন আবিষ্কারের ফলে মানব ইতিহাসের এক যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটতে থাকে।

আদিম মানুষেরা খাবার রান্না করা, উষ্ণতা ও আলো, শিকারী প্রাণী থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য তারা আগুন ব্যবহার করা শিখেছিল। আগুনের সঠিক ব্যবহার আদিম মানুষের বেঁচে থাকা এবং আধুনিক বিকাশের জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।

আদিম মানুষের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার কি

আদিম মানুষের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার কি ছিল এটা হচ্ছে আগুনের ব্যবহার এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ করা। আগুনের ব্যবহার আবিষ্কার করার ফলে আদিম মানুষেরা তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এক সময় আগুন হয়ে ওঠে আদিম মানুষের একমাত্র প্রধান উপাদান। আগুনের ব্যবহার করার ফলে তারা খাবার রান্না করে খেতে পারত, বনের হিংস্র প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং শীত থেকে রক্ষা পেতে তারা আগুনের ব্যবহার করা শুরু করে

আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার কি ছিল

আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার কি ছিল জানেন না অনেককেই। আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার ছিল হচ্ছে প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি। আদিম মানুষের হাতিয়ার গুলো ছিল খুবই কার্যকরী। আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার গুলো হচ্ছে:
  • পাথরের হাতিয়ার
  • অমসৃণ পাথর
  • গাছের শক্ত ডাল
  • পশুপাখির হাড়ের তৈরী হাতিয়ার
এই কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার তারা তাদের শিকারী সহ সকল প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন।

আদিম যুগের মানুষ কিভাবে বসবাস করত

আদিম যুগের মানুষ প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে বসবাস করত। আদিম মানুষের জীবন ছিল খুবই সহজ এবং প্রাকৃতির উপকরণের উপর নির্ভরশীল। আদিম যুগের মানুষ কিভাবে বসবাস করত জেনে নিন।
  • তারা খাবার এবং পানির জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত।
  • গুহা, পাথরের আশ্রয়স্থল এবং গাছের আগাছা এবং ডালপালা দিয়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করত।
  • পশুপাখি শিকার, নদীতে মাছ ধরা এবং গাছ থেকে ফলমূল সংগ্রহ করত।
  • আদিম মানুষেরা ছোট ছোট দল হয়ে গোষ্ঠীতে বসবাস করত এবং একে অপরের সহযোগিতা নিয়ে বেঁচে থাকত।
  • পাথর এবং হাড় দিয়ে শিকার করার জন্য হাতিয়ার বানাত।
  • খাবার রান্না করা এবং শিকারী প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পেতে রাতে আগুন ব্যবহার করত।
আদিম যুগের মানুষ মূলত এইরকম ভাবে বসবাস করত এবং জীবিকা নির্বাহ করত।

আদিম মানুষের সংস্কৃতি কেমন ছিল

আদিম মানুষের সংস্কৃতি কেমন ছিল এটা অনেকটাই প্রকৃতি নির্ভর ছিল। আদিম মানুষের জীবনযাত্রা মূলত পশুপাখি শিকার করা, সংগ্রহ এবং অস্থায়ী বাসস্থান নির্মাণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এরা ছোট ছোট দল বা গোষ্ঠীতে বসবাস করত। এছাড়াও আদিম মানুষেরা প্রকৃতি, আত্মা এবং তাদের পূর্বপুরুষের পূজা করত।
আদিম-মানুষের-জীবনযাত্রা-কেমন-ছিল
সঙ্গীত চর্চা, নৃত্য, মূর্তি এবং গুহাচিত্র তাদের শিল্প ও সংস্কৃতি ছিল। এছাড়াও তারা আগুন জ্বালানো এবং ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রযুক্তি গত উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের ভাষা ছিল মৌখিক এবং অত্যন্ত সরল। তারা তাদের হাতের ইশারা এবং শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। গুহাচিত্র এবং বিভিন্ন প্রতীক তারা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত।

আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের কি কি সুবিধা হয়েছিল

আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার হয়েছিল। আজকের এই আধুনিক বিকাশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে আগুনের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল। আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের কি কি সুবিধা হয়েছিল দেখে নিন।
  • আগুনের ব্যবহার করে তারা খুব সহজেই খাবার রান্না করে খেতে পারত।
  • ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষা পেতে আগুন গরম অনুভূতি প্রদান করত।
  • রাতে আগুন জ্বালিয়ে অন্ধকারে কাজ করতে পেত এবং শিকারী প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পেত।
  • আগুন ব্যবহার করে নানা রকমের হাতিয়ার তৈরি করতে পারত।
  • এছাড়াও আগুন জ্বালিয়ে তারা আগুনের চারপাশে জমা হয়ে সামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করত এবং সবার মাঝে যোগাযোগ গড়ে তুলত।
উপরোক্ত সুবিধা গুলো আদিম মানুষেরা আগুন জ্বালাতে শেখার পর সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পেরেছিল।

আদিম যুগের মানুষের পারিবারিক কাঠামো

আদিম যুগের মানুষের পারিবারিক কাঠামো ছিল সাধারণত খুবই ছোট এবং সহজ। তাদের জীবন ধারণের মাধ্যম গুলোও ছিল খুব সাধারণ। নিচে আদিম যুগের মানুষের পারিবারিক কাঠামো গুলোর বৈশিষ্ট্য গুলো জেনে নিন।
  • আদিম যুগের মানুষ মূলত ছোট ছোট দল বা গোষ্ঠীতে দলগত ভাবে বসবাস করত।
  • পরিবারের সদস্যরা এক অপরের সাথে সহযোগিতা করত এবং পশু শিকার, বাসস্থান নির্মাণ তারা পারিবারিক সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে করত।
  • আদিম যুগের মানুষের পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত একজন শক্তিশালী এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দেয়া হতো।
  • তাদের বিবাহ গুলো এক গোষ্ঠী থেকে অন্য গোষ্ঠীর মধ্যে হতো।
  • পরিবারের একমাত্র বন্ধন ছিল হচ্ছে সামাজিক বন্ধন। এইগুলো মেনে নিয়েই তারা তাদের পারিবারিক জীবনযাত্রা পরিচালনা করত।

আদিম যুগ ও বর্তমান যুগের পার্থক্য

আদিম যুগ ও বর্তমান যুগের পার্থক্য খুবই চোখে পড়ার মতো। নিচে আদিম যুগ এবং বর্তমান যুগের পার্থক্য দেয়া হলো।

আদিম যুগ:

  • পাথর, কাঠ, গাছের ডালপালা এবং হাড়ের তৈরী হাতিয়ার ব্যবহার করা হত।
  • পশুপাখি শিকার করে এবং সেটা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করা হত।
  • পাহাড়ের গুহা কিংবা অস্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ করে বসবাস করা হত।
  • ছোট ছোট দল বা গোষ্ঠীতে বসবাস করত।
  • জাদুবিদ্যা, প্রকৃতি পূজা এবং আত্মা বিশ্বাস প্রচলিত ছিল।
  • প্রতীকী মাধ্যমে যোগাযোগ এবং মৌখিক ভাষা ব্যবহৃত হত।

বর্তমান যুগ:

  • কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি বা হাতিয়ার ব্যবহার করা হয়।
  • কৃষি, শিল্প এবং সেবা খাতের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হয়।
  • স্থায়ী ঘরবাড়ি এবং উন্নত শহর কাঠামো ব্যবহার করে বসবাস করা যাচ্ছে।
  • বড় ধরনের সামাজিক কাঠামো, রাষ্ট্র এবং বিশ্ব মানব সম্প্রদায় রয়েছে।
  • বিজ্ঞান, যুক্তিবাদী এবং বিভিন্ন ধর্ম চিন্তাভাবনা প্রচলিত রয়েছে।
  • উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি, মোবাইল ইন্টারনেট এবং দ্রুত যাতায়াতের জন্য বিমান সেবাও রয়েছে।
উপরোক্ত পার্থক্য গুলো আদিম যুগ এবং বর্তমান যুগের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করেছে।

আদিম যুগের মানুষের অর্থনীতি কেমন ছিল

আদিম যুগের মানুষের অর্থনীতি ছিল খুবই সহজ এবং প্রকৃতি নির্ভর। আদিম যুগের মানুষের অর্থনীতি মূলত গড়ে উঠেছিল পশুপাখি শিকার, সংগ্রহ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভর করে।
  • প্রাণী শিকার, বন্য ফলমূল এবং পানি সংগ্রহ করে জীবনধারণ করা।
  • পাথর, কাঠ এবং হাড় দিয়ে শিকার করার মতো হাতিয়ার তৈরি করা।
  • পণ্য ও সেবার সরাসরি বিনিময়।
  • গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পদ সমান ভাগাভাগি করা।
  • খাদ্য ও সম্পদের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানো।
  • পশু শিকার করা এবং সকল ধরনের কাজ গোষ্ঠীর সকল সদস্যরা এক অপরের প্রতি সহযোগিতা করত।
এই সরল ও সহজ অর্থনীতি তাদের বেঁচে থাকার জন্য গড়ে উঠেছিল।

আদিম মানুষের খাদ্য

আদিম মানুষের খাদ্য ছিল পুরোটাই প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য গ্রহণ করার জন্য তাদের শিকার করতে হতো। আদিম মানুষের খাদ্য তালিকা:

শিকারী প্রাণী:
  • হরিণ, বানর, শুকর খরগোশ এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর মাংস
  • নদ নদী থেকে মাছ ধরা
  • উদ্ভিদ জাতীয় খাদ্য
  • বন্য ফলমূল, মাটির নিচের শিকড়, ধানের বীজ, বাদাম, শস্য এবং অন্যান্য ভোজ্য উদ্ভিদ জাতীয় খাবার।
পোকামাকড় জাতীয় খাদ্য:
  • পোকামাকড় লার্ভা পাখি, অন্যান্য ছোট প্রাণী এবং সরীসৃপের ডিম সংগ্রহ করে খাওয়া।
  • এছাড়াও খাদ্য গ্রহণে সুবিধা এবং হজম করার জন্য তারা এইগুলো আগুনে সেদ্ধ করে বা পুড়িয়ে গ্রহন করো। এতে করে খাদ্য দ্রুত সময়ে হজম হতে শুরু করে।

বাংলা অঞ্চলে প্রাচীন কালের মানুষের জীবন কেমন ছিল

বাংলা অঞ্চলে প্রাচীনকালের মানুষের জীবন কেমন ছিল জানতে চান অনেকেই। বাংলা অঞ্চলে প্রাচীনকালের মানুষের জীবন ছিল প্রকৃতি নির্ভর এবং কৃষিভিত্তিক। বাংলা অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা সংস্কৃতি এবং অর্থনীতি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনযাত্রা:
  • বাংলা অঞ্চলে প্রাচীনকালের মানুষ বেশিরভাগ বেশি কাজ করতো। তারা ধান গম ডাল এবং অন্যান্য ফসল চাষ করত। এছাড়াও নদীতে রিচ এবং খাল বিলে মাছ ধরা ছিল তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। তারা কাঁচা ঘর বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে ঘর তৈরি করে বসবাস করত।
সামাজিক অবকাঠামো:
  • বাংলা অঞ্চলে প্রাচীনকালের মানুষ ছোট ছোট গ্রামে বসবাস করত এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক মিল বন্ধন ছিল। এছাড়াও সমাজে বিভিন্ন জাতি ও পেশাব ভিত্তিক গোষ্ঠী ছিল, যেমন কৃষক মাঝি কারিগর ইত্যাদ।

ধর্ম ও বিশ্বাস:
  • বাংলা অঞ্চলে প্রাচীনকালে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেবদেবীর প্রচার প্রচলিত ছিল এমনকি বৌদ্ধ ধর্ম প্রচলিত ছিল বিশেষ করে পাল রাজাদের আমলে। এছাড়াও প্রকৃতি পূজা হিসেবে নদী গাছ এবং প্রাকৃতিক শক্তির পূজা করা হতো।
শিল্প ও সংস্কৃতি:
  • বাংলা অঞ্চলের প্রাচীনকালের মানুষের জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল মৃৎশিল্প সংগীত ও নৃত্য শিল্প। তারা মাটির পাত্র মূর্তি এবং অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করতো। এছাড়াও বিভিন্ন উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্যের প্রচলন ছিল।
অর্থনীতি:
  • বাংলা অঞ্চলে প্রাচীনকালে প্রধান অর্থনীতি ছিল কৃষি। স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রচলিত ছিল নদীপথের মাধ্যমে।
শিক্ষাও জ্ঞান:
  • আদিম মানুষেরা বাংলা অঞ্চলে প্রাচীনকালে জ্ঞান ও মৌখিকভাবে শিক্ষা প্রচলন শুরু হয়েছিল। এছাড়াও মন্দির ও বিহারে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হতো।
তাই বলা চলে বাংলা অঞ্চলে প্রাচীনকালের মানুষের জীবন যেন প্রাকৃতিক ও সম্পদের সাথে গভীরভাবে জড়িত। আদিম মানুষের বাংলা অঞ্চলের জীবনযাত্রা সংস্কৃতি এবং অর্থনীতি সবাই ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার উপর ভিত্তি করে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন।

শেষ কথাঃ আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল

পরিশেষে বলা যায় আদিম মানুষের জীবনযাত্রা ছিল খুবই সাধারণ এবং সরল। এর কারণ হচ্ছে এরা সেই সময় প্রযুক্তি বা বিজ্ঞানের কোন ধরনের সহায়তা পেত না। তারা তাদের জীবন পশুপাখি শিকার এবং ফলমূল সংগ্রহ করে কাটিয়ে দিত। খাবারের খোঁজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেত। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন চিন্তাভাবনা ছিল না। তারপর তারা আগুনের ব্যবহার শিখলো এবং ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক বিকাশ করতে লাগলো। এভাবেই ধীরে ধীরে আগুনের ব্যবহারের মাধ্যমে আদিম যুগ থেকে আমাদের বর্তমান যুগ আবিষ্কৃত হলো। এভাবে আদিম যুগের মানুষের ইতিহাস তৈরি হয়েছিল।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url